For PDF version click here
True Leadership
রোমানিয়ান লেখক ডোনালড ওয়ালটার একবার বলেছিলেন, “Leadership is an opportunity to serve. It is not a trumpet call to self-importance”. কথাটি আক্ষরিক অর্থে সত্যি হলেও মাঝে মাঝে আমরা তা ভুলে যাই। আমাদের কাছে নেতৃত্ব হচ্ছে পদ-মর্যাদা, অহমিকার প্রতীক। দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আসন থেকে শুরু করে প্রবাসের ছোট ছোট কমিউনিটির মাঝেও প্রায়শ এই দৃশ্য দেখা যায়।
আমেরিকার অভিবাসনের শুরু থেকেই ইমিগ্রেন্টরা নিজস্ব কমিউনিটি তৈরী করেছিল মূলত দুটি কারণে। প্রথমতঃ ভবিষ্যত ইমিগ্রেন্টদের সাহায্য করা। জার্মান বা আইরিশ সোসাইটিগুলোর মিশন স্টিটমেন্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। দ্বিতীয়তঃ ভবিষ্যত বংশধররা যেন তাদের শিকড় ভুলে না যায়। এ লক্ষ্য দুটোর সাথে সোসাইটিগুলো নিপুণভাবে নিজস্ব সত্তাকে এদেশের আচার আর কৃষ্টির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে । এর সুফল হিসেবে জার্মান, আইরিশ এমনকি ভারতীয় সম্প্রদায়ের জীবন ব্যবস্থার সাথে আমেরিকানরা এখন সুপরিচিত। বর্তমান সময়ে যা খুবই দরকারী।
আমাদের সোসাইটিগুলোর এ মূহুর্তে মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, অনেক আমেরিকানরা জানেই না বাংলাদেশ যে গণতান্ত্রিক দেশ। মুসলিম-প্রধান হলেও আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত। মধ্যপ্রাচ্যের মত রাজতন্ত্র নয়। শুধু তাই না, সংবাদপত্রর রয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। কমিউনিটির বিভিন্ন অনুস্ঠানের মাধ্যমে এ সংবাদ্গুলো এদেশবাসীকে জানিয়ে দিতে হবে।এ সবের জন্য অবশ্যিই দরকার যোগ্য নেতৃত্বের। নেতৃত্বর সংজ্ঞার আগে বলা প্রয়োজন কেন বলতে গেলে প্রতি শহরে ইন্ডিয়ান, ফ্রেঞ্চ, ইটালী সোসাইটি দেখা যায়।
অনেকে মনে করেন, সাংস্কৃতি ধরে রাখার জন্যে আবার সোসাইটি করার কি দরকার? এতো আমরা এখনই করতে পারি।দশ পরিবার মিলে দশ-বারো রকমের খাবার তৈরী করে এক সাথে বসে খেলেই তো হয়। সাথে একটু বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানেই রয়েছে দ্বিমত। সোসাইটি করার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র নিজেদের মাঝে কৃষ্টি ধরে রাখা – এটা মনে করা উচিত নয়। হ্যাঁ, এটা একটা কারণ হতে পারে তবে কোনমতেই মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বাংলাদেশ সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের গঠনতন্ত্রে এর জবাব রয়েছেঃ
“Promote and strengthen the existing friendship between citizens of Bangladesh and the United States of America; exchange of culture with any other lawful groups or organizations interested in Bangladeshi culture.
Create a network of Bangladeshis living in North America and establish an intellectual think-tank comprising of Bangladeshis, Bangladeshi-American and Americans of other origins to assist Bangladesh in improving the well-being of the people of Bangladesh.”
বর্তমান বিশ্বে আমাদের ধর্ম এবং দেশ দুই বিভিন্নভাবে পশ্চিম বিশ্বের কাছে সংশয়পূর্ণ।এ সময়ে আমাদের উচিত সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের মূলতন্ত্রের মতই আমেরিকার বা ইংল্যান্ডের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণের সেতু তৈরী করা— বিভিন্ন নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে নিজস্ব এলাকার সেবামূলক কাজে নিজেদের জড়িত করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা। সেই সাথে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যবস্থায় যদি আমরা সাহয্য করতে পারি তাতে তো আরো বড় পাওয়া। উদাহরণ স্বরূপ স্পন্দনবির নাম বলা যায়। সানফ্রানসিস্কোতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু বাংলাদেশের উপকারে নিয়জিত না, সান্তা-ক্লারায় ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ফুড-ড্রাইভও করছে। আমার মতে বাংলাদেশ সোসাইটিগুলো এ ধরণের কাজে নিয়জিত হওয়া উচিত।সংগত কারণেই বলা যায় এই সব কাজ করা কারও একার পক্ষে দূরূহ, তাই ক্লাব বা সোসাইটির জন্ম। তাছাড়া ছেলেবেলা থেকে পড়ে এসেছি, “দশের লাঠি, একের বোঝা”। সোসাইটির কার্যকারীতা রাখার জন্য অনেক কাজ একা একাই হয়ে যায়।ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগ লাগে না। উদাহরণ হিসেবে ছোট্ট ঘটনা বলিঃ
এক শহরে প্রতি বছর ভলিবল খেলা হত। প্রতিদিন সকালে উঠে বেশ কয়েকজন উদ্দ্যোগী ফোন করে সবাইকে মাঠে আনাত। এই খেলোয়াড়দের মাঝেই একজন এক মিটিং-এর মাঝে বলেছিলন, সোসাইটির দরকার কি, সব কাজ তো এমনি হয়ে যায় । যারা উদ্দ্যোগতা ছিলেন, এবার নানা কাজে জড়িয়ে পড়লেন, সেই সাথে কেউ কেউ দাতেঁ দাতঁ চেপে দেখছিলেন আসলেই কি “কাজ এমনি হয়ে যায়”।ভদ্রলোক যদি রোজ সকালে নিজে সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করতেন, তা হলে বুঝতেন সব কাজ এমনি হয়ে যায় না । সম্পূর্ণ সামারে রোজ শনিবারের খেলা আর হয়ে উঠেনি। অথচ বেশীরভাগই বসেছিলেন আগ্রহের সাথে কখন খেলা হবে।কিন্তু উদ্দ্যোগতা নেই। সংগঠনগুলো এখানেই কাজে আসে। দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
গত বছর টালসা, ওকলাহমাতে ছোট কমিটি করে বিজয় দিবস করা হয়েছে। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠান সার্থক। কাজগুলো গুছিয়ে করা হয়েছে। সোসাইটির সার্থকতা এখানেই।
সোসাইটির সফলতা আসে কার্যকরিতার উপর।ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন তারা তাদের কাজ আগ্রহের সাথে করছে কিনা কিংবা উপভোগ করছে কিনা তার দায়িত্ব ব্যবস্থাপনার লীডারের ( নেতার) উপর। আর যাই হোক, বেশীর ভাগ সোসাইটিগুলোর কর্মীরা বিনা পারিকশ্রমে কাজ করে। তাদের কাজ যেন তাদের উপর সিন্দাবাদের ভূত না হয় তা লীডারকে খেয়াল রাখতে হবে। লীডারের আক্ষরিক সংজ্ঞা হচ্ছে যিনি পথ-প্রদর্শক, অনুপ্রেরক এবং শাসক। আমরা প্রায়শঃই একজন ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপক (পরিচালক) আর লীডার বা নেতার মধ্যে ভুল করি। ব্যবস্থাপককে প্রধানতঃ চারটি বিষয়ে প্রাধান্য দিতে হয়ঃ
· সুসংগঠিত করা
· পরিকল্পনা করা
· নির্দেশিত দিকে নিয়ে যাওয়া
· পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা
সত্যিকারের নেতার এই গুনাবলীর সাথে দূরদৃষ্টির অধিকারী (/অধিকারিণী) হতে হয়। কর্মীদের জন্য সে পথ-প্রদর্শক। সোসাইটি বা দেশের জন্য নুতন দিগন্ত তাকেই উন্মোচন করতে হয়। তাই ব্যবস্থপনার জন্য নেতৃত্বর গুনাবলীর দরকার নেই কিন্তু একজন নেতার জন্য এসব খুবই জরুরী।
এছাড়া নেতাকে জনগণ অনুসরণ করে।তাই নেতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লক্ষনীয়। জেনারেল নরমান শোয়াস্কপফ তাই বলেছিলেন, “নেতৃত্বর মূল মন্ত্রে আছে ব্যক্তির কৌশলতা আর চারিত্রিক গুণ। যদি কারও যদি একটি ঘারতি থাকে তা যেন কৌশলতা হয়”। এ থেকেই বোঝা যায়, নেতার চরিত্র কত প্রয়জনীয়। ক্লিনটন বা এরশাদ যখন কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তখনই আমরা দেখিছিলাম জনপ্রিয়তা কত হ্রাস পেয়েছিল। “অমুকের চরিত্র, ফুলের মত পবিত্র”— হাস্যকর শুনালেও নেতার জন্য প্রযোজ্য।
প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষা একজন পরিচালকের জন্য যত জরুরী, নেতার জন্য নাও হতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার লীডার সোসাইটির প্রতিনিধি। শুরুতে তার জনপ্রিয়তার জন্যে উচ্চ শিক্ষা যোজক হিসেবে কাজে লাগতে পারে। পরবর্তীতে তার দূরদৃষ্টি আর সিদ্ধান্তই মূল শক্তি হবে।সব কিছুর উপরে একজন লীডারের মনে রাখা উচিত তার উপর অর্পিত দায়িত্বর জন্য সে ভাগ্যবান (/ভাগ্যবতী)। অনাগত দিনের সমস্ত কাজের ফলের জন্যে সেই সবচেয়ে বেশী দায়ী — তা ভালো হোক বা খারাপ হোক। ক্ষুদ্র কাজের জন্য অন্যকে যেমন তার বাহাবা দিতে হবে, তেমনি ভুলের জন্য নিজেকে দায়ী করতে হবে। তবেই সে হয়ে উঠবে প্রকৃত নেতা।
আমেরিকার অভিবাসনের শুরু থেকেই ইমিগ্রেন্টরা নিজস্ব কমিউনিটি তৈরী করেছিল মূলত দুটি কারণে। প্রথমতঃ ভবিষ্যত ইমিগ্রেন্টদের সাহায্য করা। জার্মান বা আইরিশ সোসাইটিগুলোর মিশন স্টিটমেন্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। দ্বিতীয়তঃ ভবিষ্যত বংশধররা যেন তাদের শিকড় ভুলে না যায়। এ লক্ষ্য দুটোর সাথে সোসাইটিগুলো নিপুণভাবে নিজস্ব সত্তাকে এদেশের আচার আর কৃষ্টির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে । এর সুফল হিসেবে জার্মান, আইরিশ এমনকি ভারতীয় সম্প্রদায়ের জীবন ব্যবস্থার সাথে আমেরিকানরা এখন সুপরিচিত। বর্তমান সময়ে যা খুবই দরকারী।
আমাদের সোসাইটিগুলোর এ মূহুর্তে মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে তুলে ধরা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, অনেক আমেরিকানরা জানেই না বাংলাদেশ যে গণতান্ত্রিক দেশ। মুসলিম-প্রধান হলেও আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত। মধ্যপ্রাচ্যের মত রাজতন্ত্র নয়। শুধু তাই না, সংবাদপত্রর রয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। কমিউনিটির বিভিন্ন অনুস্ঠানের মাধ্যমে এ সংবাদ্গুলো এদেশবাসীকে জানিয়ে দিতে হবে।এ সবের জন্য অবশ্যিই দরকার যোগ্য নেতৃত্বের। নেতৃত্বর সংজ্ঞার আগে বলা প্রয়োজন কেন বলতে গেলে প্রতি শহরে ইন্ডিয়ান, ফ্রেঞ্চ, ইটালী সোসাইটি দেখা যায়।
অনেকে মনে করেন, সাংস্কৃতি ধরে রাখার জন্যে আবার সোসাইটি করার কি দরকার? এতো আমরা এখনই করতে পারি।দশ পরিবার মিলে দশ-বারো রকমের খাবার তৈরী করে এক সাথে বসে খেলেই তো হয়। সাথে একটু বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানেই রয়েছে দ্বিমত। সোসাইটি করার উদ্দেশ্য কেবলমাত্র নিজেদের মাঝে কৃষ্টি ধরে রাখা – এটা মনে করা উচিত নয়। হ্যাঁ, এটা একটা কারণ হতে পারে তবে কোনমতেই মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বাংলাদেশ সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের গঠনতন্ত্রে এর জবাব রয়েছেঃ
“Promote and strengthen the existing friendship between citizens of Bangladesh and the United States of America; exchange of culture with any other lawful groups or organizations interested in Bangladeshi culture.
Create a network of Bangladeshis living in North America and establish an intellectual think-tank comprising of Bangladeshis, Bangladeshi-American and Americans of other origins to assist Bangladesh in improving the well-being of the people of Bangladesh.”
বর্তমান বিশ্বে আমাদের ধর্ম এবং দেশ দুই বিভিন্নভাবে পশ্চিম বিশ্বের কাছে সংশয়পূর্ণ।এ সময়ে আমাদের উচিত সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের মূলতন্ত্রের মতই আমেরিকার বা ইংল্যান্ডের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণের সেতু তৈরী করা— বিভিন্ন নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে নিজস্ব এলাকার সেবামূলক কাজে নিজেদের জড়িত করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা। সেই সাথে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ব্যবস্থায় যদি আমরা সাহয্য করতে পারি তাতে তো আরো বড় পাওয়া। উদাহরণ স্বরূপ স্পন্দনবির নাম বলা যায়। সানফ্রানসিস্কোতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু বাংলাদেশের উপকারে নিয়জিত না, সান্তা-ক্লারায় ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য ফুড-ড্রাইভও করছে। আমার মতে বাংলাদেশ সোসাইটিগুলো এ ধরণের কাজে নিয়জিত হওয়া উচিত।সংগত কারণেই বলা যায় এই সব কাজ করা কারও একার পক্ষে দূরূহ, তাই ক্লাব বা সোসাইটির জন্ম। তাছাড়া ছেলেবেলা থেকে পড়ে এসেছি, “দশের লাঠি, একের বোঝা”। সোসাইটির কার্যকারীতা রাখার জন্য অনেক কাজ একা একাই হয়ে যায়।ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগ লাগে না। উদাহরণ হিসেবে ছোট্ট ঘটনা বলিঃ
এক শহরে প্রতি বছর ভলিবল খেলা হত। প্রতিদিন সকালে উঠে বেশ কয়েকজন উদ্দ্যোগী ফোন করে সবাইকে মাঠে আনাত। এই খেলোয়াড়দের মাঝেই একজন এক মিটিং-এর মাঝে বলেছিলন, সোসাইটির দরকার কি, সব কাজ তো এমনি হয়ে যায় । যারা উদ্দ্যোগতা ছিলেন, এবার নানা কাজে জড়িয়ে পড়লেন, সেই সাথে কেউ কেউ দাতেঁ দাতঁ চেপে দেখছিলেন আসলেই কি “কাজ এমনি হয়ে যায়”।ভদ্রলোক যদি রোজ সকালে নিজে সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করতেন, তা হলে বুঝতেন সব কাজ এমনি হয়ে যায় না । সম্পূর্ণ সামারে রোজ শনিবারের খেলা আর হয়ে উঠেনি। অথচ বেশীরভাগই বসেছিলেন আগ্রহের সাথে কখন খেলা হবে।কিন্তু উদ্দ্যোগতা নেই। সংগঠনগুলো এখানেই কাজে আসে। দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
গত বছর টালসা, ওকলাহমাতে ছোট কমিটি করে বিজয় দিবস করা হয়েছে। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠান সার্থক। কাজগুলো গুছিয়ে করা হয়েছে। সোসাইটির সার্থকতা এখানেই।
সোসাইটির সফলতা আসে কার্যকরিতার উপর।ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন তারা তাদের কাজ আগ্রহের সাথে করছে কিনা কিংবা উপভোগ করছে কিনা তার দায়িত্ব ব্যবস্থাপনার লীডারের ( নেতার) উপর। আর যাই হোক, বেশীর ভাগ সোসাইটিগুলোর কর্মীরা বিনা পারিকশ্রমে কাজ করে। তাদের কাজ যেন তাদের উপর সিন্দাবাদের ভূত না হয় তা লীডারকে খেয়াল রাখতে হবে। লীডারের আক্ষরিক সংজ্ঞা হচ্ছে যিনি পথ-প্রদর্শক, অনুপ্রেরক এবং শাসক। আমরা প্রায়শঃই একজন ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপক (পরিচালক) আর লীডার বা নেতার মধ্যে ভুল করি। ব্যবস্থাপককে প্রধানতঃ চারটি বিষয়ে প্রাধান্য দিতে হয়ঃ
· সুসংগঠিত করা
· পরিকল্পনা করা
· নির্দেশিত দিকে নিয়ে যাওয়া
· পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা
সত্যিকারের নেতার এই গুনাবলীর সাথে দূরদৃষ্টির অধিকারী (/অধিকারিণী) হতে হয়। কর্মীদের জন্য সে পথ-প্রদর্শক। সোসাইটি বা দেশের জন্য নুতন দিগন্ত তাকেই উন্মোচন করতে হয়। তাই ব্যবস্থপনার জন্য নেতৃত্বর গুনাবলীর দরকার নেই কিন্তু একজন নেতার জন্য এসব খুবই জরুরী।
এছাড়া নেতাকে জনগণ অনুসরণ করে।তাই নেতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য লক্ষনীয়। জেনারেল নরমান শোয়াস্কপফ তাই বলেছিলেন, “নেতৃত্বর মূল মন্ত্রে আছে ব্যক্তির কৌশলতা আর চারিত্রিক গুণ। যদি কারও যদি একটি ঘারতি থাকে তা যেন কৌশলতা হয়”। এ থেকেই বোঝা যায়, নেতার চরিত্র কত প্রয়জনীয়। ক্লিনটন বা এরশাদ যখন কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তখনই আমরা দেখিছিলাম জনপ্রিয়তা কত হ্রাস পেয়েছিল। “অমুকের চরিত্র, ফুলের মত পবিত্র”— হাস্যকর শুনালেও নেতার জন্য প্রযোজ্য।
প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষা একজন পরিচালকের জন্য যত জরুরী, নেতার জন্য নাও হতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার লীডার সোসাইটির প্রতিনিধি। শুরুতে তার জনপ্রিয়তার জন্যে উচ্চ শিক্ষা যোজক হিসেবে কাজে লাগতে পারে। পরবর্তীতে তার দূরদৃষ্টি আর সিদ্ধান্তই মূল শক্তি হবে।সব কিছুর উপরে একজন লীডারের মনে রাখা উচিত তার উপর অর্পিত দায়িত্বর জন্য সে ভাগ্যবান (/ভাগ্যবতী)। অনাগত দিনের সমস্ত কাজের ফলের জন্যে সেই সবচেয়ে বেশী দায়ী — তা ভালো হোক বা খারাপ হোক। ক্ষুদ্র কাজের জন্য অন্যকে যেমন তার বাহাবা দিতে হবে, তেমনি ভুলের জন্য নিজেকে দায়ী করতে হবে। তবেই সে হয়ে উঠবে প্রকৃত নেতা।